
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অন্যতম প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী পশুর হাট ‘পাওটানা হাট’ এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত। বর্তমান ইজারাদার মোঃ আব্দুল বারী জুলফিকারের সুদূরপ্রসারী ও জনবান্ধব ব্যবস্থাপনায় এবার হাটের সার্বিক চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। কোনো ধরনের জালিয়াতি, ছিনতাই বা অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে এখানে গবাদিপশু বেচাকেনা চলছে।
সরেজমিনে হাট ঘুরে দেখা গেছে, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারী এবং স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইজারাদার মোঃ আব্দুল বারী জুলফিকারের নিজস্ব ভলান্টিয়ার বা স্বেচ্ছাসেবক দল পুরো হাটজুড়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। অজ্ঞানপার্টি, পকেটমার বা মলমপার্টির তৎপরতা রোধে হাটের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। ফলে কোনো প্রকার ভীতি ছাড়াই ক্রেতারা নির্বিঘ্নে টাকা লেনদেন করতে পারছেন।
পাওটানা পশুর হাটের এবারের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো নির্ধারিত মূল্যে হাসিল আদায়। অনেক হাটে অতিরিক্ত হাসিল নেওয়ার অভিযোগ থাকলেও, এখানে ইজারাদারের কঠোর নির্দেশনায় সরকারি বিধিমালা মেনে সঠিক মূল্যে হাসিল রসিদ দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ না থাকায় সাধারণ খামারি ও ক্রেতারা অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
হাটে আসা এক বিক্রেতা বলেন, “আগে হাটে আসলে দালালদের খপ্পরে পড়ার ভয় থাকত। এবার জুলফিকার ভাইয়ের ব্যবস্থাপনায় কোনো ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি ক্রেতার কাছে গরু বিক্রি করতে পেরেছি। হাসিল নিয়েও কোনো জোরজুলুম নেই।”
পশুর হাটে আসা মানুষ ও পশুর জন্য পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা, উন্নত স্যানিটেশন এবং দূরবর্তী ব্যাপারীদের জন্য থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনের উপস্থিতির কারণে কোনো বিক্রেতা প্রতারিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে ইজারাদার মোঃ আব্দুল বারী জুলফিকার জানান, পাওটানা পশুর হাট এই অঞ্চলের একটি ঐতিহ্য। এখানে আসা প্রতিটি মানুষ যেন নিরাপদে এবং ন্যায্যমূল্যে পশু কেনাবেচা করতে পারেন, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা একটি আদর্শ ও পজিটিভ পরিবেশ বজায় রাখতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মোঃ আব্দুল বারী জুলফিকারের এই নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থাপনার কারণে পাওটানা পশুর হাটটি রংপুর জেলার অন্যতম সেরা ও নিরাপদ পশুর হাট হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।