1. akazad7340@gmail.com : দৈনিক উত্তরের খবর : দৈনিক উত্তরের খবর
  2. info@www.dainikuttarerkhobor.online : দৈনিক উত্তরের খবর :
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কর্মস্থলে নারীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির লালমনিরহাটে পণ্যবাহী ট্রাক উল্টে কৃষক নিহত রংপুরে জাতীয়তাবাদী ব্যাটারী চালিত অটো ও চার্জার রিস্কা শ্রমিক দলের আয়োজনে মে দিবস পালিত লালমনিরহাটে মাদকের মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানের ৫ বছরের জেল দুই মামলায় জামিন পেলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বাড়ল ৪ টাকা কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিনতাইকারী চক্র: র‍্যাব গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার ব্যাপারে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী: তারেক রহমান ‎রংপুরে সময়ের আগেই পাকা আমের ছড়াছড়ি, হরমোন ব্যবহারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

কর্মস্থলে নারীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

নারী শ্রমিকদের মর্যাদা, নিরাপত্তা, সমান মজুরি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা একটি নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং সমান কাজে সমান মজুরি নিশ্চিত করে একটি মানবিক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। আমি আশা করি, সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার শ্রম খাতে সরকারের উদ্যোগ ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে এবং সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

বিশ্বের সকল শ্রমিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি মে দিবসকে শ্রম অধিকারের জন্য ত্যাগ, সংহতি ও সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।

১৮৮৬ সালে শিকাগোতে আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের সেই সংগ্রাম বিশ্বব্যাপী মেহনতি মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছিল। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, শ্রম অধিকার আন্দোলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত, আহত ও নির্যাতিত শ্রমিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দেশের উন্নয়নে শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম। শ্রমিকেরাই দেশের উন্নয়নের মূল কারিগর। দেশের শিল্পকলকারখানা, কৃষি, পরিবহন, গৃহকর্ম ও নির্মাণসহ প্রতিটি খাতে তাদের নিরলস পরিশ্রম আমাদের সমাজ, অর্থনীতি, সভ্যতা ও উন্নয়নকে বেগবান ও সমৃদ্ধ করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো বিশাল রেমিট্যান্স এবং তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে অর্জিত আয় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির প্রাণশক্তি।

শ্রমিক কল্যাণে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ত্রিপক্ষীয় শ্রমনীতি ও সংস্কার শ্রমকল্যাণের ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে। ১৯৭৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মিনিস্ট্রি অব ম্যানপাওয়ার। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যসহ ৩৩টি দেশে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এই উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের নতুন যুগের সূচনা করে।

মো. সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ‘শ্রম আইন ২০০৬’ প্রণয়ন ও শ্রম কল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাসহ শ্রমিকের অধিকার, কর্মসংস্থান ও কল্যাণের ভিতকে আরও বিস্তৃত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার দেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ, ন্যায্য অধিকার রক্ষা, শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য এবং নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নানাবিধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি জানান, সরকার প্রতিশ্রুতি অনুসারে শ্রমিকদের কল্যাণে ঘোষিত কর্মপরিকল্পনার সব কটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ চিনিকল, রেশম ও পাটকলসহ শিল্পকলকারখানা চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ছয় মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ছয়টি পাটকল চালু করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

সুষ্ঠু শিল্প সম্পর্কের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, শ্রমিক ও মালিকের পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টেকসই শিল্প উন্নয়ন ও সুরক্ষিত কর্মসংস্থান দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শ্রম খাতে শিল্প সম্পর্ক বজায় রাখা এবং শ্রমিক-মালিকের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রমকে উৎসাহ দিতে এই সরকার সচেষ্ট।

আইনি সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০২৬’ পাস করা হয়েছে। শ্রম মান উন্নয়নে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৯টি কনভেনশন এবং একটি প্রটোকল অনুসমর্থন করেছে।

সম্প্রতি মিরপুরের রূপনগরে একটি কেমিক্যাল গুদামে আগুনে ১৩ জন শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। কর্মস্থলে দুর্ঘটনা রোধে কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমন্বিত পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। শিল্প-কারখানার নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করতে শ্রম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন, বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ-সহ সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এ বছরের মে দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’—এর কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জনে শ্রমিকের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন উপস্থিত ছিলেন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট