জনগণের স্বার্থ রক্ষা ও তাদের সমস্যার সমাধান করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গড়ার কর্মসূচিতে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আসুন, কাজ করে নিজের দেশকে নিজেরাই গড়ে তুলি। বিদেশ নিয়ে নয়, আমরা বাংলাদেশ নিয়ে গর্ব করব।
শনিবার (২ মে) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কাশিপুরের ঐতিহ্যবাহী বাঁশিয়া খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের (বিএনপি) এক নম্বর দায়িত্ব হচ্ছে, এই দেশের মানুষের স্বার্থ দেখা; এই দেশের মানুষের সমস্যার সামাধান করা। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, বাংলাদেশকে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। অন্যান্য উন্নত দেশের পাশাপাশি আমরা বাংলাদেশকে দাঁড় করাতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।
নিজের ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে তিনি বলেন, আসুন, কাজ করে নিজের দেশকে নিজেরাই গড়ে তুলি। বিদেশ নিয়ে নয়, আমরা বাংলাদেশ নিয়ে গর্ব করব।
এর আগে, দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধন শেষে উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খালটি ১৯৭৭ সালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। এরপর চলতে চলতে খালটি আবার বন্ধ হয়ে গেছে। এই খালটি আমরা কাটতে চাই।
তিনি বলেন, খালটি কাটলে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। এর বাইরে আরও প্রায় দেড় লাখ কৃষক উপকার পাবেন। এতে করে বর্তমানে খালের দুপাশে যে পরিমাণ ফসল উৎপাদন হয়, তার চেয়ে প্রায় ৭ হাজার টন ফসল বেশি উৎপাদিত হবে।
শুধু এই বাঁশিয়া খালই নয়, সারা বাংলাদেশে এমন অনেক খাল আমরা খনন করব। কারণ খালগুলো খনন হলে কৃষক ভাইদেরই সুবিধা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান সরকারকে ‘কৃষকবান্ধব সরকার’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আমরা কৃষক ভাইদের কৃষিকার্ড প্রদান করব। আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন, আমরা সেই কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছি।
তিনি বলেন, কৃষিকার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষকদের ঋণ, সার, বীজ ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন সুবিধা সরাসরি দিতে পারব। আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, এই কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষকদের বছরে আড়াই হাজার টাকা করে দেব, যা দিয়ে তারা নিজেরা কীটনাশক, বীজ ইত্যাদি সরাসরি কিনতে পারবেন।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ১২ লাখ কৃষকের কৃষিঋণ আমরা সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছি। আমরা চাই, এ দেশের কৃষক ভাইয়েরা ভালো থাকুক, গ্রামের মানুষ ভালো থাকুক। দেশের বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। তাই দেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী যাতে ভালো থাকতে পারে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঁশিয়া খাল পুনঃখননেন মাধ্যমে (সিলেটে) আমরা খাল খননের কাজ শুরু করলাম। দেশের প্রায় ৬০টির মতো জেলায় এরই মধ্যে খাল খনন শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, বাঁশিয়া খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ কিলোমিটার, এর মধ্যে ২৩ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এই কাজ পুরোপুরি শেষ করতে আমাদের দুটো শুষ্ক মৌসুম লাগবে। এ বছর তো বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। ফলে এখন আর কাজ বেশিদূর এগোবে না। তবে আগামী নভেম্বর মাস থেকে আবার এই কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানান তিনি।
আগামী বছর খালের ২৩ কিলোমিটার পুনঃখনন সম্পন্ন করতে চেষ্টা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এছাড়া খালটি রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের উপকারে দুই পাশে প্রায় ৫০ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই বৃক্ষরোপণের ফলে খালের পাড়ও ধরে রাখা সম্ভব হবে এবং গাছের তলায় মানুষের বসার জায়গাও হবে। এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ফলজ বৃক্ষও রাখা হবে বলে জানান তিনি।
সরকারপ্রধান বলেন, দেশে একটি নির্বাচিত সরকার গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিয়ে এমন একটি সরকার গঠন করেছে যারা জনগণের জন্য কাজ করবে। আমাদের একমাত্র জবাবদিহি হচ্ছে এই দেশের মানুষের কাছে, জনগণের কাছে। সেজন্য আমরা সেসব কর্মসূচি পালন করতে চাই, সেসব কাজ করতে চাই, যাতে জনগণের উপকার হবে।
তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মতো ফ্যামিলি কার্ডও শুরু করেছি। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য মাসিক সম্মানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন দেশ গড়ার কাজ করতে হবে।
সিলেটের উন্নয়ন প্রসেঙ্গ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুধী সমাবেশে আমাকে বলা হয়েছে, সিলেট জেলাসহ সমগ্র বিভাগে মিল-কারখানার সংখ্যা কম। ফলে অনেক যুবক বেকার হয়ে বসে আছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা দেশের বন্ধ থাকা কল-কারখানাগুলো চালু করব।
তিনি বলেন, আপনাদের সিলেটের সন্তান মুত্তাদির (খন্দকার আবদুল মুত্তাদীর) শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। নির্বাচনের ৫-৭ দিনের মাথায় আমি তাকে নিয়ে বসেছিলাম যে কোথায় কোথায় মিল-কারখানা বন্ধ আছে, সেগুলো বের করতে, যাতে করে সব কারখানা ধীরে ধীরে চালু করতে পারি। এতে করে বেকারদের কর্মসংস্থান হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু তা-ই নয়, দেশে যাতে নতুন কল-কারখানা তৈরি হয়, সেজন্য আমি কিছুদিন আগে দেশের শিল্প উদ্যোক্তাদের নিয়ে বসেছি। এ ছাড়াও বিদেশের যেসব শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গেও আমরা কথা বলছি, যাতে অতি দ্রুত সেসব দেশে আমাদের দেশ থেকে আবার কর্মী যাওয়া শুরু হয়। কাজেই দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আমরা করার চেষ্টা করছি। কারণ এই সরকার হচ্ছে আপনাদের সরকার।