1. akazad7340@gmail.com : দৈনিক উত্তরের খবর : দৈনিক উত্তরের খবর
  2. info@www.dainikuttarerkhobor.online : দৈনিক উত্তরের খবর :
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রংপুরে দেশব্যাপী ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে ‘বাংলার চোখ’-এর মানববন্ধন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী সাহেবগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে রংপুরে বিআরটিএ-এর কঠোর পদক্ষেপ রংপুরে পুকুরে গোসলে নেমে প্রাণ গেল দুই কিশোরের রংপুর পীরগঞ্জে কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড ধানখেত, বিপাকে কৃষক শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিরাপদ ঈদযাত্রার আহ্বান রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের রংপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ পালিত রংপুরে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’

রংপুরে আম রক্ষায় মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭৪ বার পড়া হয়েছে

রংপুরে গ্রামের পথে হাঁটলেই দেখা যায়, মুকুল ঝরে পড়ে গাছে দুলছে আমের গুটি। আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে লাভ-লোকসানের হিসাব কষা শুরু করেছেন। তবে এই হিসাব করতে গিয়ে গুটি আম রক্ষায় অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে আমের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর অঞ্চলে ৬০৪৯ দশমিক ৫ হেক্টর জমিতে ৮২ হাজার ৬৬২ টন হাঁড়িভাঙ্গাসহ অন্যান্য আম উৎপাদিত হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর উৎপাদন আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

আম মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গাছের পরিচর্যা শুরু হয়। অধিক ফলনের আশায় আম সংগ্রহের পর গাছের গোড়ায় হরমোন ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ফলন ব্যাহত করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বদরগঞ্জ উপজেলার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তা সাদ্দাম হোসাইন বলেন, বর্তমানে আমে এত বেশি কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে যে তা বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না। বিশেষ করে হাঁড়িভাঙ্গা আমের আগের স্বাদও পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে বাইরের বাজারে চাহিদা কমে যাচ্ছে।

কৃষকরাও স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বলছেন। দীর্ঘদিন কীটনাশকের সংস্পর্শে থাকায় তারা নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।

ওই এলাকার কৃষক আবদুল বাতেন বলেন, ১৫ বছর ধরে আম চাষ করছি। নিয়মিত স্প্রে ও কীটনাশকের সংস্পর্শে থাকায় এখন এর প্রভাব শরীরে পড়ছে। মাঝে মাঝে চোখ ঝাপসা হয়ে আসে।

পদাগঞ্জের কৃষক ইয়াকুব আলী বলেন, আগে হাঁড়িভাঙ্গা আমে ২-৩ বার কীটনাশক স্প্রে করলেই চলত এবং স্বাদও ভালো ছিল। এখন ৩০-৩৫ বার স্প্রে করতে হয়। পাশাপাশি হরমোন ব্যবহার না করলে গাছে আম ধরে না। ফলে অতিরিক্ত স্প্রে ও হরমোন ব্যবহারে আগের মতো স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না।

চিকিৎসকদের মতে, অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। এতে শ্বাসকষ্ট, চোখের সমস্যা, ত্বকের রোগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সুলতানা আশরাফী বলেন, অতিরিক্ত হরমোন ব্যবহারে বিষক্রিয়া হতে পারে যা কিডনি জটিলতা ও রক্তকণিকার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া কীটনাশক ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ব্যবহার না করলে শ্বাসনালিতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে আমের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ কমে যাচ্ছে।

রংপুর আইডিয়াল হেলথ সিটির ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট ও ডায়েট কনসালটেন্ট ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ফলের গুণাগুণ ও স্বাদ নষ্ট করে। ফলে প্রত্যাশিত পুষ্টিগুণও থাকে না।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, পরিমিত মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করলে কোনো সমস্যা হয় না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, মুকুল ফোটার আগেই ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হয়। এরপর গু‌টি মার্বেল আকার ধারণ করলে ৭ থেকে ১০ দিন পর আবার প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়। ফল পরিপক্ব হওয়ার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে স্প্রে বন্ধ রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বেই হরমোন ব্যবহার করা হয় এবং পরিমিত ব্যবহারে এর কোনো ক্ষতি নেই।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রংপুরের সহকারী বিপণন কর্মকর্তা শাহীন আহমেদ বলেন, এখনও বড় পরিসরে আম রপ্তানি সম্ভব হয়নি। তবে গত বছর কিছু প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিয়েছিল। বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের মানদণ্ড, যেমন ‘ফিট ফর হিউম্যান কনজাম্পশন’ নিশ্চিত করতে হবে। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট