1. akazad7340@gmail.com : দৈনিক উত্তরের খবর : দৈনিক উত্তরের খবর
  2. info@www.dainikuttarerkhobor.online : দৈনিক উত্তরের খবর :
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রংপুরে আলুর দামে ধস: লোকসান ও সংরক্ষণের অভাবে রাস্তায় ফেলছেন কৃষক দেশের ৯ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের সাক্ষাৎ আর এক মাসের অপেক্ষা, হাঁড়িভাঙা আম ঘিরে রংপুরে ২৫০ কোটির বাণিজ্যের হাতছানি রংপুর পীরগঞ্জে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজে ১৫ ইউনিয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হওয়া মানবতাবিরোধী মামলাগুলো যাচাই-বাছাই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুর বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ভ্যানচালক খুন দিনাজপুর বড়পুকুরিয়ায় আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৩ মাস খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে: ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিতে জনগণকে পাশে থাকার আহ্বান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রংপুরে আলুর দামে ধস: লোকসান ও সংরক্ষণের অভাবে রাস্তায় ফেলছেন কৃষক

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

রংপুর অঞ্চলে আলুর কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় এবং সংরক্ষণের অভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন চাষিরা। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি আলু মাত্র ৫-৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় সামান্য। লোকসান এড়াতে ও পচন ধরায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বস্তাভর্তি আলু রাস্তার ধারে ফেলে দিচ্ছেন। কৃষি বিভাগের আশঙ্কা, এ মৌসুমে এই অঞ্চলে আলুর ক্ষতি প্রায় ৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কৃষকদের তথ্যমতে, বর্তমানে পাইকারি বাজারে আলুর দর ৬ থেকে ৮ টাকা কেজি, তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে ৪ থেকে ৫ টাকা কেজিতে। অথচ প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ দাঁড়িয়েছে ১৮ থেকে ১৯ টাকা। গত বছরও উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে (৮-১০ টাকা) আলু বিক্রি করতে হয়েছিল, তবে এ বছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।

কৃষি বিভাগের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটের ৯টি উপজেলার চাষিরা আলু সংরক্ষণ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে গঙ্গাচড়া উপজেলায় সংকট সবচেয়ে বেশি। উপজেলার একমাত্র হিমাগারটির ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৫০ হাজার বস্তা, যা এরই মধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে বাড়িতে আলু মজুত করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই আলুতেও দ্রুত পচন ধরেছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) গঙ্গাচড়ার সদর ইউনিয়নের চেংমারী ও কুরিয়ার মোড় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শত শত বস্তাভর্তি পচা আলু রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও স্তূপ করা আলু থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দাম পড়ে যাওয়ায় বিক্রি করতে না পারায় এবং সংরক্ষণের অভাবে এসব আলু পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে ফেলে দিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর গঙ্গাচড়ায় ৫ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ২০৭ টন আলু, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় বেশি। অতিরিক্ত উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য না থাকায় আলুর দাম কমে গেছে।

রংপুরে আলুর দামে ধস: লোকসান ও সংরক্ষণের অভাবে রাস্তায় ফেলছেন কৃষক

রাস্তার পাশে পড়ে থাকা পচা আলু থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

চেংমারী গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, তিনি প্রায় ৩০০ শতক জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। শুরুতে পাইকারেরা তিন–চার টাকা কেজি দর প্রস্তাব করায় তিনি আলু ঘরে তুলে রাখেন, কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে সেগুলোতে পচন ধরে। শেষপর্যন্ত প্রায় ৫০ বস্তা আলু ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

একই গ্রামের কৃষক পারভিন আক্তার (৫০) আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি নিজের জমির পাশাপাশি বর্গা ও লিজ নেওয়া জমিসহ প্রায় ৫০০ শতক জমিতে আলু চাষ করেন। এ জন্য তিনি দেড় লাখ টাকার গরু বিক্রি করে দিয়েছেন, দোকান থেকে বাকিতে সার-কীটনাশক নিয়ে জমিতে প্রয়োগ করেছেন। ফলন ভালো হলেও বিক্রির সময় পাইকার না পাওয়ায় কিছু আলু হিমাগারে রাখেন এবং প্রায় ২০০ বস্তা বাড়িতে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও আর্দ্রতায় সেগুলো দ্রুত পচে যেতে শুরু করে।

পারভিন আক্তার বলেন, ‘আমরা যারা বর্গা ও লিজ নিয়ে চাষ করি, তাদের খরচ অনেক বেশি। জমির ভাড়া, শ্রমিক, সার-কীটনাশক—সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের টাকা লাগে। এখন বিক্রি না করতে পারলে ঋণ শোধ করব কীভাবে?’

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের আলু চাষি সোলায়মান আলী বলেন, ‘ফসল ফলিয়েও যদি ন্যায্য দাম না পাই, তাহলে কৃষকের বাঁচার পথ কোথায়?’ আলু হিমাগারে রাখতে না পেরে বাড়িতে রাখায় আলু পচন ধরেছে ফলে ৭০ বস্তা ফেলে দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

শুধু মিজানুর রহমান, সোলেমান ও পারভিন আক্তারই নন, তাদের মতো রংপুর অঞ্চলের ১০০০ থেকে ১২০০ জন কৃষক একই সংকটে পড়েছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

গঙ্গাচড়া এমএনটি হিমাগারের সামনে নবনীদাস এলাকার আলু ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, ‘মাঠে ৫ টাকা কেজিতে আলু কিনলেও বস্তা, শ্রমিক, পরিবহন, গিমাগারসহ এক কেজিতে খরচ পড়ে প্রায় ২০ টাকা। অথচ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭-৮ টাকা দরে। তাহলে ব্যবসা করব কীভাবে?’

এ বিষয়ে গংগাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, এ বছর গঙ্গাচড়ায় চাহিদার তুলনায় বেশি আলু উৎপাদন হয়েছে। যারা শুরুতে আলু তুলেছেন, তারা ক্ষতির মুখে পড়েননি, কিন্তু দেরিতে তোলা আলু বৃষ্টি ও সংরক্ষণ সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট