রংপুর অঞ্চলে আলুর কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় এবং সংরক্ষণের অভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন চাষিরা। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি আলু মাত্র ৫-৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় সামান্য। লোকসান এড়াতে ও পচন ধরায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বস্তাভর্তি আলু রাস্তার ধারে ফেলে দিচ্ছেন। কৃষি বিভাগের আশঙ্কা, এ মৌসুমে এই অঞ্চলে আলুর ক্ষতি প্রায় ৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কৃষকদের তথ্যমতে, বর্তমানে পাইকারি বাজারে আলুর দর ৬ থেকে ৮ টাকা কেজি, তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে ৪ থেকে ৫ টাকা কেজিতে। অথচ প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ দাঁড়িয়েছে ১৮ থেকে ১৯ টাকা। গত বছরও উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে (৮-১০ টাকা) আলু বিক্রি করতে হয়েছিল, তবে এ বছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।
কৃষি বিভাগের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটের ৯টি উপজেলার চাষিরা আলু সংরক্ষণ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে গঙ্গাচড়া উপজেলায় সংকট সবচেয়ে বেশি। উপজেলার একমাত্র হিমাগারটির ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৫০ হাজার বস্তা, যা এরই মধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে বাড়িতে আলু মজুত করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই আলুতেও দ্রুত পচন ধরেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) গঙ্গাচড়ার সদর ইউনিয়নের চেংমারী ও কুরিয়ার মোড় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শত শত বস্তাভর্তি পচা আলু রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও স্তূপ করা আলু থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দাম পড়ে যাওয়ায় বিক্রি করতে না পারায় এবং সংরক্ষণের অভাবে এসব আলু পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে ফেলে দিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর গঙ্গাচড়ায় ৫ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ২০৭ টন আলু, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় বেশি। অতিরিক্ত উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য না থাকায় আলুর দাম কমে গেছে।
