
রবিন চৌধুরী রাসেল, রংপুর।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার সাথে জড়িতদের বিচারের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শহিদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন।
তিনি বলেন, আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় যারা আদেশ দিয়েছে সেই বড় বড় পুলিশের কর্মকর্তারাই তো বাঁচি গেলো। এসময় আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে যারা দায়ী তাদের সবার বিচার দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে শহিদ আবু সাঈদ হত্যায় রায় ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া রায়ে অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
আবু সাঈদের বাবা বলেন, ছেলে হত্যার ঘটনাটি শুধু কনস্টেবলের ওপর দিয়ে গেল। যাদের আদেশে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তারা বেঁচে গেল। আমরা সব আসামির ফাঁসি চাই।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুইজন হলেন- এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন।
এছাড়া রায়ে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ, গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডলের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের এই ট্রাইবুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন, বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর রায় ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, দুজন পুলিশ সদস্যের ওপর দিয়ে এই রায়টা চালিয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক আদালত বা সরকার পার হয়ে গেল। কিন্তু এ হত্যার আদেশদাতাদের মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে শুধুমাত্র পুলিশ সদস্য ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এর ওপর দিয়ে এ মামলার রায় চালিয়ে দেয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সহায়তা পেলে তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং আন্দোলনের গতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।