মোস্তফা মিয়া, রংপুর।
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। কাবিখা, কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির আওতায় মোট ১৮৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে উন্নয়নের দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিখা/কাবিটা)-এর আওতায় ২ কোটি ১০ লাখ ৬৪ হাজার ১০৬ টাকা ব্যয়ে ৭১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ১২৫.৫৪৭৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের বিপরীতে আরও ২১টি প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ৬৬ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮২ টাকা ব্যয়ে ৯২টি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইউনিয়নগুলো হলো—চতরা, কাবিলপুর, কুমেদপুর, রায়পুর, বড় দরগা, পীরগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পূর্বে এসব এলাকায় কাঁচা রাস্তার কারণে বর্ষা মৌসুমে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যেত। বিশেষ করে ১৫নং নিজ কাবিলপুর ও চতরা ইউনিয়নের টিকাপাড়া এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদামাটির কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বর্তমানে ইটের সলিং, সিসি ঢালাই ও এইচবিবি রাস্তা নির্মাণের ফলে যাতায়াত সহজ হয়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকার সচেতন মহল বলছেন, পূর্বের তুলনায় বর্তমানে প্রকল্পগুলোর কাজের মান অনেক উন্নত হয়েছে। নিয়মিত তদারকির ফলে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ কমে এসেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ জানান, “জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে গ্রামের মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুন বলেন, “প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করা হচ্ছে। কোথাও যেন কাজের গাফিলতি বা অনিয়ম না হয়, সেজন্য কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।