রবিন চৌধুরী রাসেল, রংপুর।
রংপুর পীরগাছা উপজেলার ১নং কল্যাণী ইউনিয়নে বড়দরগা বাজারে পরিকল্পিতভাবে রাতে শালিশি বৈঠকের কথা বলে পরিকল্পিত ভাবে গণমাধ্যমকর্মীসহ তার পরিবারের উপর হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে।
গতবৃহস্পতিবার (২রা এপ্রিল) রাত আনুমানিক এগারোটার দিকে পীরগাছা বড়দারগা বাজার সংলগ্ন মাহিগঞ্জ মেট্রোপলিটন এরিয়ায় বড়দারগা আইডিয়াল স্কুলের মাঠে এ ঘটনা ঘটায়। অভিযোগ ও ভুক্তভোগী শুকরানা জানায় বড়দরগা বাজারে আর এম ট্রেডার্স নামের আমাদের হার্ডওয়ারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখান থেকে নজরুল মিস্ত্রি প্রায় দেড় বছর পূর্বে দুই এক মাসের কথা বলে ৪৯,০০৪/- (উনপঞ্চাশ হাজার চার) টাকার মালামাল বাকিতে নেয়। দুই মাস পার হলে নজরুলের কাছে টাকা চাইলে তিনি আজকাল করতে করতে দেড় বছর হয়ে যায় অথচ নজরুল মিস্ত্রি মালামালের পাওনা টাকা দেয় না। গত বছর আমরা দোকানের বকেয়া তোলার জন্য হালখাতা করেছি। সেই হালখাতার সময় নজরুল মিস্ত্রিকে হালখাতার কার্ড দিলে, সে আমার গায়ে হালখাতার কার্ড ছুড়ে মারে। আর বলে আমি তোদের বকেয়া টাকা দিবো না। যেমন করে পারিস তুলে-নে। হঠাৎ করে গত বৃহস্পতিবার ০২/০৪/২০২৬ ইং তারিখে সকাল বেলা নজরুল মিস্ত্রী আমাদের দোকানে আসলে আমার বাবা তার কাছে পাওনা টাকা চাইলে সঙ্গে সঙ্গে নজরুল মিস্ত্রী আমার বাবার সঙ্গে উত্তেজিতভাবে বলে আমি টাকা দেবোনা। দেখি কেমন করে টাকা নেইস। তখন আমি নজরুলকে।বলি বাইকের চাবিটা রেখে যা। আমাদের পাওনা টাকা দিয়ে চাবি নিয়ে যাবি। নজরুল মিস্ত্রি সে সময় বাইক রেখে চলে যায়। আমরা তখন ১নং কল্যানি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সামছুল হক লিপু মেম্বারকে খবর দিয়ে ঘটনা খুলে বলে বাইকের চাবি মেম্বারের হেফাজতে দেই। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে ১নং কল্যানি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ শফিকুল মেম্বার), ও ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার সামছুল হক লিপু পাওনা টাকা তুলে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে বড়দারগা বাজার সংলগ্ন আইডিয়াল স্কুলের মাঠে আগে থেকে সুপরিকল্পিতভাবে ৬০ থেকে ৭০ জনকে নিয়ে তারা বৈঠকে বসে। হঠাৎ আমাদেরকে রাতে ওই বৈঠকে ডাক দিলে আমার বাবাসহ তিন ভাই বৈঠকে যাই। বৈঠকে ৬ মেম্বার আর দুইজন প্যানেল চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক চলাকালে শেষের দিকে আমি শুকুরানা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার সময় নজরুল মিস্ত্রি লোকজন জাহিদুল ব্যাপারি বলে ধর বলার সাথে সাথে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক শহিদুল খলিফা, খোরশেদ আলম, জিহাদসহ আরো অনেকে আমিসহ আমার বাবা ও ভাইদেরকে এলোপাতাড়ি চর ঘুশি, চেয়ার, কেচি, লাঠি দিয়ে মারডাং করতে থাকে। আমার গলাচিপে ধরে শ্বাসরোধ করে। আমার অন্ডকোষে লাথি মারে এবং এক পর্যায়ে নজরুল মিস্ত্রি আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাঁচি দিয়ে মাথায় আঘাত করে গভীর ক্ষত হয়। এবং আমি সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে যাই। উপস্থিত মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যানগন সহ আরো কয়েকজন আমাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করেন। সেখানে আমার মাথা দুইটা সেলাই পড়ে। রংপুর মেডিকেলে আমি পাঁচ দিন চিকিৎসা নিয়ে আমি বাসায় চলে আসি। এ বিষয়ে ১নং কল্যাণী ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার সামছুল হক লিপু বলেন, নজরুল মিস্ত্রির কাছে শুকুরানা'রা মালামালের বকেয়া ৫০ হাজার টাকা পায়। সেই টাকার চাইলে নজরুল মিস্ত্রি উত্তেজিত হয়। শুকুরানা মোটরসাইকেলের চাবি নেয়। আর বলে আমাদের পাওনা টাকা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাইস। শুকরানার কথা মতো নজরুল গাড়ি রেখে চলে যায়। পরে শুকরানা পরিবার আমাকে ডেকে চাবি দিয়ে দেয়। ঐদিন রাতে আমিসহ চার মেম্বার দুই প্যানেল চেয়ারম্যান দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসি। বৈঠকের শেষের দিকে শুকুরানা কথা বললে নজরুল মিস্ত্রির লোকজন শুকুররানাদেরকে এলোপাতাড়ি মাইর শুরু করে। ১নং কল্যাণী ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার হুমায়ন আহমেদকে মুঠো ফোনে ফোন দিলে তিনি জানান, আমরা ৬ জন জনপ্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। নজরুল মিস্ত্রিরা আমাদেরকে ভাইলোড করে জাহিদুল ব্যাপারির হুকুমে শুকুরানাদের পরিবারের লোকজনদেরকে মারপিট করে। ১নং কল্যাণী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নেছার মিয়া বলেন, নুর ইসলাম (শুকুরানা'র বাবা) ভাইরা তাদের দোকানের থেকে ৫০ হাজার টাকার মাল নজরুল মিস্ত্রি কিনেছে। শুকুরানা মোটরসাইকেল চাবি নিলে ৪ জন মেম্বার ও দুইজন প্যানেল চেয়ারম্যান এর উপস্থিতিতে রাতে বৈঠক হলে নজরুল ইসলাম ও জাহিদুল ব্যাপারি আমাদের উপস্থিতিতে নুর ইসলাম ভাইদের কে আক্রমণ করে। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এ বিষয়ে বাকিতে মালামাল ক্রয় করা নজরুল ইসলামকে মুঠো ফোনে কল দিয়ে ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে টাকা পাবে, আমি দোকানের সামনে গেলে টাকা চায়, আমি তাত্ক্ষণিক টাকা দিতে না পারলে বাইকের চাবি নিয়ে বলে বাইক রেখে যা। টাকা নিয়ে আসি বাইক নিয়ে যা। পরে আমি বাইক রেখে আসি। শুকরানা পরিবার লিটু মেম্বারকে ডেকে চাবি দিয়ে বাইকটি মেম্বারকে দিয়ে দেয়। রাতে মেম্বার পাওনা টাকার জন্য বৈঠক ডাকে সেই বৈঠক শেষের দিকে শুকরানা কথা বলার সময় আমাদের লোকজন মারামারি শুরু করে, সেই মারামারিতে শুকরানা আহত হয়। আমার ভাইয়ের হাতে ও দাঁতে ব্যাথা পায়।
এ বিষয়ে মাহিগঞ্জ মেট্রোপলিটন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাইদুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি আমার অফিসার ঘটনাস্থলে যাবে। ঘটনার সত্যতা পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।