পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
রবিবার (৫ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের বিভিন্ন কর্মসূচি বিষয়ে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা জানান।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ১৯৮৯ সালে যে শোভাযাত্রার সূচনা করে, তখন এর নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। পরবর্তীতে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এটি নতুন তাৎপর্য পায়। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শুভ শক্তির আহ্বানের প্রতীক হিসেবে তখন এর নামকরণ করা হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’।
ক্রমে এই শোভাযাত্রা শুধু নববর্ষ উদযাপনের অংশ না থেকে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের একটি প্রতীকী মাধ্যমে পরিণত হয়। এর গুরুত্ব আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পায়, যখন ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
তবে গত বছর বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উপলক্ষে আয়োজকরা মঙ্গল শোভাযাত্রার পরিবর্তে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম ব্যবহার করেন। তাদের দাবি, এটি নতুন কিছু নয়; বরং ১৯৮৯ সালের মূল নামেই ফিরে যাওয়া।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়। একদল মনে করে, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ইতোমধ্যেই ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অংশ হয়ে উঠেছে, তাই এর নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, ভিন্নমতাবলম্বীরা মনে করেন, নামের পরিবর্তনের মাধ্যমে আয়োজনটির সর্বজনীনতা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব।
এমন পক্ষে-বিপক্ষে মতবিরোধের মধ্যেই এবার ভিন্ন একটি পথ বেছে নিয়েছে বর্তমান সরকার।