1. akazad7340@gmail.com : দৈনিক উত্তরের খবর : দৈনিক উত্তরের খবর
  2. info@www.dainikuttarerkhobor.online : দৈনিক উত্তরের খবর :
রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বেনাপোল দিয়ে দেশে ঢুকছে না ভারতীয় পেঁয়াজ, দাম বাড়ার আশঙ্কা হাড়কাঁপানো শীত উত্তরবঙ্গে, ২০ দিনে ২৮ জনের মৃত্যু উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে: ফখরুল নাগেশ্বরীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইসসহ ৬ জন আটক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে বিক্ষোভে ইরানে নিহত অন্তত ৩৫ গভীর সমুদ্র গবেষণা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণে গুরুত্বারোপ প্রধান উপদেষ্টার যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশে হাদিকে হত্যা করা হয়: ডিবি প্রধান শান্ত, জাকেরকে বাদ দিয়ে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা লালমনিরহাটে বৃষ্টির মতো পড়ছে শিশির, হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন রাতভর নাটকীয়তার পর সকালে জামিনে মুক্ত হবিগঞ্জের সেই বৈষম্যবিরোধী নেতা

হাড়কাঁপানো শীত উত্তরবঙ্গে, ২০ দিনে ২৮ জনের মৃত্যু

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

প্রতি বছরের মতো এবারও রংপুর বিভাগে শীতের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। কনকনে শীতে পুরো বিভাগের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতজনিত রোগে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। সেইসঙ্গে বাড়ছে রোগাক্রান্ত রোগী মৃত্যুর সংখ্যা।

পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে উত্তরের জেলাগুলোতে ঘরের বাইরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে বাসিন্দাদের। দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্য কমে এসেছে; হিমেল হাওয়া কাঁপন ধরাচ্ছে শরীরে। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষ। শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন উত্তরের ছিন্নমূলসহ তিস্তা, ধরলা ও যমুনার চর ও বাঁধে আশ্রিতরা।

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) সুত্র জানায়, শীতের তীব্রতা বাড়ায় রমেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে এই বিভাগের ৮ জেলা থেকে আসা শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

বিশেষ করে হাসপাতালগুলোর মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী বেড়েছে। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০ দিনে রমেক হাসপাতালে ১ হাজার ৯১৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। শীতজনিত রোগে এই ২০ দিনে মারা গেছেন ২৮ জন। এর মধ্যে মেডিসিন ও শিশু বিভাগে মারা গেছেন ১৭ জন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আশিকুর রহমান বলেন, তীব্র শীত এই অঞ্চলে। তাই শীতজনিত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাইঁ নেই। এ কারণেই প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৬ টায় রংপুর বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া একই সময়ে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি, নীলফামারীর ডিমলায় ১০ ডিগ্রি , রংপুরে ১০ দশমিক ২, কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও দিনাজপুরে ১১ দশমিক ৫, গাইবান্ধায় ১১ দশমিক ৮ এবং লালমনিরহাটে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৫ দিন রংপুর বিভাগ ও নদীর অববাহিকা এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, হিমালয় পর্বতমালা রংপুর বিভাগ থেকে কাছে হওয়ায় দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় এখানে শীত একটু বেশি অনূভূত হয়। হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে গত ২০ দিন ধরে প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কম থাকায় বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর এলাকার কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘নদীর তীরোত (তীরে) হামার (আমার) বাড়ি। ঘরের ভেতরোত (ভেতরে) হু-হু করি বাতাস ঢোকে। আইতোত (আমাদের) থাকতে ম্যালা (অনেক) কষ্ট হয়। ঠান্ডাত বাহিরোত বের হওয়া যায় না, খ্যাতোত (খেতে) যে যামে (যাব) তার উপায় নাই।’

কোলকোন্দ ইউনিয়নের আনসার আলী বলেন, ‘শীতের জন্তে (জন্যে) সামনোত দেখা যায় না। ঠান্ডা আর বাতাসোত এলাকার সবারে সর্দিকাশি লাগি গেইচে। যার কাপড় আচে, ওমরা (উনারা) ঘর থেকে বেরবার পাওছে (পারছেন)। যার নাই তাই (তিনি) ঘর থ্যাকি বের হবার পাওচে না। হঠাৎ করি ঠান্ডা পড়ি মাইষের এমন দশা হইচে।’

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. আব্দুল মোকাদ্দেম বলেন, চলতি শীতে হাসপাতালে মারা যাওয়া রোগীর হার স্বাভাবিক। আমরা সীমিত জনবল দিয়ে রোগীদের ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। চিকিৎসায় ওষুধপত্রের সরবরাহ ঠিক রয়েছে। গত ২০ দিনে এই হাসপাতালে শীতজনিত রোগে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হাড়কাঁপানো শীতে মুরগির খামারিরা শেডের চারদিকে কাপড় দিয়ে বাতাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। গরুর খামারিরা শীত থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। গ্রামাঞ্চলের মানুষ বস্তা দিয়ে ঢেকে গরু-ছাগলকে উষ্ণ রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এদিকে, রংপুর চিড়িয়াখানার পশুপাখিদের বিশেষ যত্ন নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। শীতের প্রকোপে চিড়িয়াখানার বাঘ, ঘোড়া, হরিণ, ময়ূর, বানর, বকসহ বিভিন্ন পশুপাখির কষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তীব্র ঠান্ডায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে প্রাণীগুলোকে নিয়মিত ভিটামিন খাওয়ানো হচ্ছে।

রংপুর চিড়িয়াখানার দায়িত্বরত জেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ওমর ফারুক বলেন, যেসব প্রাণী শীত সহ্য করতে পারে না, তাদের শেডগুলো রাতে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। সবসময় চিকিৎসকরা পশুদের দেখভাল করছেন। এখন পর্যন্ত চিড়িয়াখানার সব প্রাণীই সুস্থ রয়েছে বলে জানান তিনি।

রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাওয়া ৫ হাজারসহ মোট সাড়ে ৭ হাজার কম্বল উপজেলাপর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৮ উপজেলায় কম্বল বিতরণের লক্ষ্যে ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, শীতবস্ত্রের অভাবে এবার কেউ কষ্ট পাবে না।

রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম বলেন, এ বিভাগের আটটি জেলায় এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৩০ হাজার কম্বলের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। কেউ শীতে যাতে কষ্ট না পায়, সে ব্যাপারে সরকার আন্তরিক রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট